গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পনা প্রক্রিয়া


গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পনা প্রক্রিয়া (Planning Process in Media Management)

যেকোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের (পত্রিকা, টেলিভিশন, রেডিও বা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল) সফলতা, ধারাবাহিকতা এবং ব্যবসায়িক স্থায়িত্ব নির্ভর করে একটি কার্যকর পরিকল্পনা প্রক্রিয়ার ওপর। গণমাধ্যম যেমন একদিকে একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান, অন্যদিকে এটি একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও বটে। তাই তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে কনটেন্ট প্রকাশ এবং অর্থায়ন—প্রতিটি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা মেনে চলতে হয়।

গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পনা প্রক্রিয়া মূলত নিচের ধাপগুলোতে সম্পন্ন করা হয়:

১. লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ (Setting Goals and Objectives)

পরিকল্পনার প্রথম ধাপ হলো প্রতিষ্ঠান কী অর্জন করতে চায় তা পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করা।

  • সম্পাদকীয় লক্ষ্য: সংবাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় জোর দেওয়া বা নির্দিষ্ট কোনো জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা।

  • ব্যবসায়িক লক্ষ্য: আগামী ১ থেকে ৩ বছরে সার্কুলেশন, টিআরপি বা ডিজিটাল ট্রাফিক কতটা বৃদ্ধি করা হবে এবং রাজস্ব (Revenue) অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা কত।

২. পারিপার্শ্বিক ও বাজার বিশ্লেষণ (Environmental & Market Analysis)

গণমাধ্যমের বাজার প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাজার পরিস্থিতি ভালোভাবে অনুধাবন করতে হয়।

  • SWOT বিশ্লেষণ: প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শক্তি (Strength), দুর্বলতা (Weakness), সুযোগ (Opportunity) এবং ঝুঁকি বা হুমকি (Threat) চিহ্নিত করা।

  • দর্শকের চাহিদা (Audience Analysis): পাঠক বা দর্শক কারা? তাদের বয়স, পছন্দ এবং তথ্য গ্রহণের মাধ্যম (টিভি, পত্রিকা নাকি সোশ্যাল মিডিয়া) কেমন তা বিশ্লেষণ করা।

  • প্রতিযোগী বিশ্লেষণ: প্রতিযোগী মাধ্যমগুলো কী ধরনের কনটেন্ট সরবরাহ করছে তা নজরদারিতে রাখা।

৩. সম্পদ চিহ্নিতকরণ ও বাজেট প্রণয়ন (Resource Identification & Budgeting)

লক্ষ্য অর্জনের জন্য কী পরিমাণ মানবসম্পদ, প্রযুক্তি ও আর্থিক পুঁজি প্রয়োজন তা হিসাব করা।

  • মানবসম্পদ: প্রতিবেদক, সম্পাদক, টেকনিশিয়ান, মার্কেটিং ও সেলস টিমের কর্মবণ্টন।

  • প্রযুক্তিগত সম্পদ: ক্যামেরা, ব্রডকাস্ট সরঞ্জাম, স্টুডিও, ওয়েবসাইট সার্ভার এবং সফটওয়্যার ইত্যাদি।

  • বাজেটিং: আয় ও ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট হিসাব তৈরি করা। কনটেন্ট তৈরিতে কত খরচ হবে এবং বিজ্ঞাপন বা সাবস্ক্রিপশন থেকে কত আয় আসবে তার পরিকল্পনা।

৪. কৌশল ও কনটেন্ট পরিকল্পনা (Strategy & Content Planning)

গণমাধ্যমের মূল প্রাণ হলো কনটেন্ট। বাজারে টিকে থাকতে আকর্ষক ও মানসম্মত কনটেন্ট তৈরির প্ল্যান করা হয়।

  • প্রোগামিং/বিট বিন্যাস: কোন সময়ে কী ধরনের অনুষ্ঠান প্রচার হবে বা পত্রিকায় কোন পৃষ্ঠায় কী বিষয় প্রাধান্য পাবে।

  • ডিজিটাল ফার্স্ট কৌশল: আধুনিক গণমাধ্যমে প্রিন্ট বা টিভির পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া ও ওয়েবসাইটে কীভাবে একই সংবাদ দ্রুত ও ভিন্নভাবে পরিবেশন করা হবে তার পরিকল্পনা।

৫. বাস্তবায়ন ও কর্মসংস্থান (Implementation & Execution)

পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু করার ধাপ।

  • বিভিন্ন বিভাগের (Editorial, Production, Marketing, Distribution) মধ্যে সুনির্দিষ্ট কাজ ভাগ করে দেওয়া।

  • দৈনিক বা সাপ্তাহিক ডেডলাইন নির্ধারণ এবং তা কঠোরভাবে মেনে চলা।

৬. তদারকি ও মূল্যায়ন (Monitoring & Evaluation)

প্রকাশিত বা প্রচারিত কনটেন্ট কতটা সফল হলো তা নিয়মিত মূল্যায়ন করা হয়।

  • প্রিন্ট/টিভি: সার্কুলেশন ডেটা এবং টিআরপি (TRP) রেটিং পর্যবেক্ষণ।

  • ডিজিটাল মিডিয়া: গুগল অ্যানালিটিক্স, ফেসবুক ইনসাইটস বা পেজভিউ/রিচ বিশ্লেষণ করে দর্শকের প্রতিক্রিয়া পরিমাপ করা।

  • ফিডব্যাক গ্রহণ: পাঠক ও দর্শকদের মন্তব্য বিবেচনা করে পরবর্তী পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা।

1.লক্ষ্য নির্ধারণ:ধাপ ১.

সম্পাদকীয় এবং অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা সুনির্দিষ্টভাবে ঠিক করা।

2.বাজার বিশ্লেষণ (SWOT):ধাপ ২.

দর্শক ও পাঠকের চাহিদা এবং প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের অবস্থান চিহ্নিত করা।

3.বাজেটিং ও সম্পদ বণ্টন:ধাপ ৩.

প্রযুক্তি, মানবসম্পদ এবং অর্থের সঠিক বরাদ্দ দেওয়া।

4.কনটেন্ট কৌশল তৈরি:ধাপ ৪.

টিভি প্রোগ্রামিং, পত্রিকার বিন্যাস বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পরিকল্পনা করা।

5.বাস্তবায়ন ও তদারকি:ধাপ ৫.

কাজের ডেডলাইন নিশ্চিত করা এবং টিআরপি/পেজভিউ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ফলাফল মূল্যায়ন করা।

Previous Post Next Post
Premium By Raushan Design With Shroff Templates