সিনেমা: লালসালু (রিভিউ)

  

সিনেমা: লালসালু (রিভিউ)

১৯৪৮ সালে রচিত এবং প্রকাশিত উপন্যাসটি থেকে বাংলা এই সিনেমা ‘লালসালু’ সৃষ্টিকর্ম হিসেবে পরিচিত হয়েছে। ১৯৪০ কিংবা ১৯৫০ দশকের বাংলাদেশের গ্রামসমাজ হলেও এর প্রভাব বা বিস্তার কালোত্তীর্ণ। মূলত গ্রামীণ সমাজের সাধারণ মানুষের সরলতাকে কেন্দ্র করে ধর্মকে ব্যবসার উপাদানরূপে ব্যবহারের একটি নগ্ন চিত্র এই সিনেমার মূল বিষয়।

কবি আহসান হাবীব লালসালুকে বলেছিলেন তৎকালীন "বাঙালি মুসলিম রচিত শ্রেষ্ঠ উপন্যাস"।

চলুন সিনেমাটি সম্পর্কে কিছু জেনে নেওয়া যাক

পরিচালকতানভীর মোকাম্মেল
প্রযোজনাকিনো-আই ফিল্মস
অভিনয়রাইসুল ইসলাম আসাদ, মুনিরা ইউসুফ মিমি, মেহবুবা মাহনূর চাঁদনী, আলী যাকের, রওশন জামিল, আমিরুল হক চৌধুরী, তৌকীর আহমেদ, চিত্রলেখা গুহ, তামান্ন ইয়াসমিন তিথী, সাইদুর রহমান বয়াতী, আহসানুল হক মিনু, এমদাদুর রহমান, মাসুদ আলী খান প্রমুখ।
চিত্রগ্রাহকআনোয়ার হোসেন
শব্দগ্রাহক রতন পাল
রূপসজ্জাদীপক কুমার সুর
সম্পাদনামহাদেব সাই
সংগীত পরিচালনাসৈয়দ শাবাব আলী আরজু
দৈর্ঘ্য১১০ মিনিট
ফরমেট৩৫মিমি. (রঙিন)
মুক্তি২০০১
দেশবাংলাদেশ
ভাষা বাংলা

চলচ্চিত্রটি মোট আটটি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার অর্জন করে। এগুলো হলো-

১. সেরা চলচ্চিত্রলালসালু
২. সেরা পরিচালকতানভীর মোকাম্মেল
৩. সেরা কাহিনীকারসৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
৪. সেরা সংলাপ রচয়িতাতানভীর মোকাম্মেল
৫. সেরা অভিনেতারাইসুল ইসলাম আসাদ
৬. সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীচাঁদনী
৭. সেরা চিত্রগ্রাহকআনোয়ার হোসেন
৮. সেরা শব্দগ্রাহকরতন পাল

আরও পড়ুন: বিরিশিরি আর সোমেশ্বরীর তীর বেশ মনোমুগ্ধকর!



লালসালু সিনেমাটি চরিত্র সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক

মজিদ:কেন্দ্রীয় চরিত্র। সকল ঘটনার নিয়ন্ত্রক। কুসংস্কার, বন্ডা ও অন্ধবিশ্বাসের প্রতীক। মহব্বতনগর গ্রামে নাটকীয়ভাবে প্রবেশ করে এবং সেখানে সে নিজের ক্ষমতা বিস্তার করতে শুরু করে।
রহিমা:মজিদের প্রথম স্ত্রী। শক্তিমত্তা তার বাইরের রূপ কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ঠান্ডা ও ভীতু প্রকৃতির মেয়ে। স্বল্পভাষী ও মজিদের একান্ত অনুগত।
জমিলা:মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রী। চঞ্চল একটি মেয়ে।
খালেক ব্যাপারী:প্রতিনিধিত্বশীল চরিত্র। তাঁর কাঁধেই গ্রামের সব দায়িত্ব।
তানু:খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় স্ত্রী।
পীর সাহেব:আউয়াল পুরের পীর। ময়মনসিংহের কোন এক অঞ্চলে বংশানুক্রমে বাস করে। একলাকার মানুয়ের দারনা তিনি সূর্যকে নিয়ন্ত্রণ করে।
আক্কাস:তিনি এক মাত্র ঐ গ্রামের শিক্ষিত যুবক। অনেক দিন বিদেশে ছিলো।
মোদচ্ছের পীর:নাম না জানা এক পীর। যাকে ঘিরেই মজিদের যত ভন্ডামি।


সিনেমার শুরুতেই একদল লোক নৌকার করে হাওরে মাছ ধরছে এমন সময় তারা দেখতে পায় একজন লোক হাওরের পারে রাস্তার উপর নামাজ পড়ছে অবাক চোখে সবাই তাকিয়ে থাকে নতুন আগুন্তুকে দিকে। পরবর্তীতে দেখা যায় পাঞ্জাবি টুপি পরা এই লোকটি ঝোপঝাড়ের একটি জঙ্গল পরিষ্কার করা করেছে সেখানে লোকজনকে যাওয়ার সাথে সাথেই বড় মূর্খ ও অভদ্র বেয়াদব বলে বকাঝকা করেন।

তার পর মূর্খের দল তুমরা জানোনা এখানে শুয়ে আছে মদন নামের এক বড় কামেল পীর। আমার স্বপ্নের মাধ্যমে এসেছে। এই এলাকার মানুষকে উদ্ধার করতে তখন তিনি নিজের নাম জানায় মজিদ পরবর্তীতে তিনি হয়েছেন মসজিদের হুজুর।
এই খানেই শেষ নয় সিনেমার মসজিদ চরিত্র হচ্ছে কেন্দ্রীয় চরিত্র তিনি সিনেমার নায়ক বলেও বলা যায়। পরবর্তীতে তিনি জায়গাটা পরিষ্কার করে মাজার বলে চালিয়ে দেয়।

তার ফাঁদে পরে মসজিদের জনপ্রিয়তা বাড়তে লাগল দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসতে থাকে। তিনি চিন্তুা করলেন আমার তো সব আছে এই সময় একটা জীবন সংঙ্গি হলে ভালো হয়। তিনি ঐ এলাকার খাঁলেক ব্যাপারিকে তার চঙ্কান্তে ফেলে। বিয়ে করে বসে। তার ব্যবসা রমরমা জমতে এভাবে ভালো দিন কাটাচ্ছে। একদিন শুনতে পারলো গ্রামে অনেক দিন পড় বিদেশ থেকে পড়াশুনা করে গ্রামে এসেছে আক্কাস।


স্কুল বানাবে এবং এলাকার মানুষকে পড়াশুনা শিখাবে। এতে করে তার মাথা দূরচিন্তা বাসা বাঁধলো তিনি চিন্তা করলো এলাকায় যুদি স্কুল প্রতিষ্টিত হয় তাহলে তো এলাকার মানুষ শিক্ষিত হয়ে যাবে। তার অপকর্ম গুলো ফাঁস হয়ে যাবে এই ভয়ে তিনি বুদ্ধি ক

এলাকার মাতাব্বর খালেক ব্যাপারী জিনি প্রতিনিধিত্বশীল চরিত্রে অভিনয় করে আসছে। তার কাঁধেই গ্রামের সব দায়িত্ব তাঁকে কৈৗসলে কাজে লাগিয়ে তিনি বললো যে গ্রামে মক্তব বানাবে। গ্রামে ছেলে-মেয়েরা নাকি ঘুমরাহী হয়ে যাচ্ছে। অতঃপর কৈৗসলে তিনি বিদেশ থেকে আসা ব্যাক্তিকে অপবাদ দিয়ে গ্রাম ছাঁড়া করে।

এবং তিনি গ্রামে মক্তব বানানো কাজ সফল করে। এদিকে কৈৗসলে পরবর্তীতে মজিদ আর একটি বিয়ে করেন মাজার দেখা শোনা করার জন্য। তার পর মাজারে বিয়ে করে বউ নিয়ে আসে।

মজিদ এর রাজত্ব মক্তব থেকে শুরু করে গ্রামের বিচার-আচার এ মসজিদের উপস্থিতি ছিল খুবই সাধারন একটি ব্যাপার যখন মসজিদের এমন ধর্মব্যবসা বেশ ভালই চলছিল তখন এই মজিদের প্রতিদ্ব›দ্বী হয়ে পাশের গ্রামে হাজির হলো অন্য একটি লোক মুখে ছড়িয়ে গেল সেই পীরের গল্প সকল মানুষকে সেবীদের আস্তানায় যাওয়া শুরু করলো মানুষ বলতে লাগল মজিদ এর চেয়ে বড় পীর এতে করে ব্যাবসায় খারাপ হওয়া শুরু হলো মজিদের।


শেষে উপায় না পেয়ে সেখানে গেলেন তিনি। কৈৗসলে সেখানে গিয়ে গোমর ফাঁস করে দিলো ভন্ড পীরের পীর কেবলা ঘোষণা করে লোকজন নিয়ে নিজ গ্রামে ফিরে আসতো সে অতি উৎসাহী কিছু লোককে সেবীদের আস্তানায় হামলা করতে গেলে মার খেয়ে ফিরে আসে।

ব্যাপারী সাহেব এর সন্তান হয় না সুনে সেই খান থেকে পানি পড়া আনতে বলে ব্যাপারির স্ত্রী। শুনেছি এ পাশের গ্রামের টির বেশি কামেল তিনি চান সেই ছেলের কাছ থেকে পানি পড়া খাবেন। মানুষ বলে তাদের কাজ হবে ব্যাপারে সাহেব তাকে গোপনে যেতে বললেন সেটা যাতে মজিদ না জানতে পারে।

ব্যাপারীর কুষাদক্ষ গুপনে রাতে রওনা দিতে রাস্তার মধ্যে ভয় পেয়ে আর যায়নি পরদিন মজিদ এর কাছে সব খুলে বলে। এবং তিনি পানি পড়া চায় শুনে মন ক্ষুন্ন হয় মজিদ ব্যাপারি বৌ এর কাজে রাঙ্গান্তি হয় এবং তাকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার কথা ভাবেন। এবং বেপারীকে তিনি কৈৗসলে জানান আপনার স্ত্রীর সন্তান জন্ম না হওয়ার ব্যাপারে স্ত্রীর সমস্যা আছে সেই সমস্যা থেকে মুক্তি এক অদ্ভুত উপায় জানায় মজিদ।

তাঁকে ছেহিরি না খেয়ে এক দিন রোজা রাখতে হবে এবং সারাদিন কুরআন তেলাওয়াত করতে হবে সন্ধ্যায় ইফতার না করে তার মাজারে গিয়ে সাদা পানি পড়া খেয়ে ঘুরতে হবে মাজারের চারদিকে ১০ চক্কর দিতে হবে। তাহলে সন্তান হবে। বন্ড মজিদ এর কথা মতো ব্যাপারীর স্ত্রীকে তা করতে বলে মথা মতো স্ত্রী ছেহেরী না খেয়ে রোজা রাখে এতে শরিল কান্ত হয়ে দূর্বল হয়ে পড়ে। কুরআন তেলাওয়াত করে মাজারে চার দিকে চক্কর দেওয়ার আগেই দূর্বল হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
এই ব্যাপারে মজিদ বলে ব্যাপারীল স্ত্রী অসতী বেপারীকে মজিদ বললো স্ত্রীকে তালাক দিতে মজিদের কথামতোই স্ত্রীকে তালাক দেয়।

এদিকে নিজের সন্তান হয় না বলে মজিদ নিয়ে আসে জমিলা নামে কমবয়সী এক ছোট চঞ্চল মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে নিয়ে আসে। মজিদকে দেখে ভয় পেতো সেই স্ত্রী তার কর্মকান্ড ভালো লাগতো না জমিলার।

এতে করে জমিলার উপর অসন্তুষ্ট ছিল মজিদ। একদিন মাজারে জোরদার জিকিরের সময় অজ্ঞান হয়ে যায় জমিলা। এই সময় ভরা মজলিসে উপস্থিত হয় জমিলা বিষয়টাকে ভালোভাবে নেয়নি মজিদ। কথা না শুনায়।

[caption id="attachment_5763" align="alignnone" width="780"] মাজারে নিয়ে বেঁধে রেখেছে মজিদের স্ত্রী জমিলাকে।[/caption]

তাকে শাস্তিস্বরূপ জমিলাকে মাজারে নিয়ে বেঁধে রাখে সে রাতে আকাশ কালো করে বৃষ্টি শুরু হয় নিজেদের ফসল রক্ষায় ব্যস্ত হয়ে যায়।
গ্রামের কৃষকরা এদিকে মাজারে গিয়ে দেখে জমির অজ্ঞান হয়ে শুয়ে আছে জমিলার দুই পা পিছিয়ে আছে মাজারের লালসালুতে এতে প্রতি রাগ হয়েছে তা যেন ফুটে ওঠে এ দৃশ্যের মাধ্যমে তাকে নিয়ে আসে মজিদ আর এভাবেই শেষ হয়ে যায় এই কালজয়ী সিনেমা লালসালু।

জানুন  👉 : আমাদের সম্পর্কে

মন্তব্য

► সিনেমাটি ভালো লাগার প্রধান কারণ হলো এই খানে সংগ্রামী মানুষের জীবন তুলে ধরেছে মজিদ চরিত্রে।
► সিনেমা হৃদয় স্পর্শ করে গেছে। কিভাবে সবার সাথে যুদ্ধ করে সমাজে টিকা থাকা যায় এমন সংগ্রামী মানুষে চেতনা কে জাগত করেছে।
► সিনেমার কলাকুশলীদের (অভিনয়শিল্পী, পরিচালক, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক কম্পোজার, সিনেমাটোগ্রাফার ইত্যাদি পারফমেন্স সব কিছু মিলেয়ে ভালো কিন্তু সিনেমার ফরমেট টা রঙিন হলেও অনেক টা সাধাকালো দেখা গেছে। এবং ব্রকরাউন মিউজিক গুলো কানে লাগার মাতো ছিলো।
► সিনেমাটি দেখতে ডাউনলোড করুন।

আরও পড়ুন: সহপাঠীর সাথে প্রেম

উল্লেখ্য

   ► নিজস্ব চিন্তা চিন্তাধানা।

►সিনেমা দেখা।

►লালসালু উপন্যাস।

►উইকিপিডিয়া ।

 




Previous Post Next Post
Premium By Raushan Design With Shroff Templates