![]() |
| তাকওয়া অর্জনের পূর্ণাঙ্গ গাইড |
রমযান কি শুধুই ভোজের উৎসব, নাকি আত্মশুদ্ধির বসন্ত? তাকওয়া অর্জনের পূর্ণাঙ্গ গাইড
সব প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য। আমরা এমন এক সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, যার প্রতিটি মুহূর্ত বরকতে ঘেরা। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, বর্তমানে আমাদের অনেকের কাছে রমযানের প্রস্তুতি মানেই হলো হরেক রকম ভোজ্যপণ্য মজুদ করা আর বিনোদনের রুটিন সাজানো। অথচ সালাফে সালেহীন বা আমাদের পূর্বসূরীদের কাছে রমযানের প্রস্তুতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং আধ্যাত্মিক।
আপনি কি এই রমযানকে গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে প্রকৃত অর্থেই সফল করতে চান? তবে চলুন জেনে নিই সুন্নাহ ও পূর্বসূরীদের অনুসরণে রমযানের প্রস্তুতির ১০টি কার্যকর ধাপ:
১. খালেস তওবা ও মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতি
গুনাহের বোঝা নিয়ে ইবাদতে স্বাদ পাওয়া কঠিন। তাই রমযানে প্রবেশের আগেই নিজের ও আল্লাহর মাঝে থাকা গুনাহ এবং মানুষের পাওনা বা অধিকারগুলো মিটিয়ে নিন। পবিত্র মন নিয়ে এই মুবারক মাসে প্রবেশ করাই হলো সফলতার প্রথম ধাপ।
২. দোয়ার শক্তি কাজে লাগানো
পূর্বসূরীগণ রমযানের ৬ মাস আগে থেকে দোয়া করতেন— "হে আল্লাহ! আমাদের রমযান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।" আর রমযান শেষে বাকি ৫ মাস দোয়া করতেন যেন তাদের আমলগুলো কবুল হয়। আজ থেকেই আল্লাহর কাছে শারীরিক সুস্থতা ও ইবাদতের তাওফিক চেয়ে দোয়া শুরু করুন।
৩. আগমনে আনন্দিত হওয়া
রমযান কোনো বোঝা নয়, বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা এক বিশাল উপহার। জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত হওয়ার এই সংবাদে মুমিনের আনন্দিত হওয়া ঈমানের দাবি। আল্লাহ বলেন, "বলো, আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়ায়; অতঃপর এর দ্বারা তারা আনন্দিত হোক।" (সূরা ইউনুস: ৫৮)
৪. কাজা রোজা সম্পন্ন করা
যদি গত বছরের কোনো ফরজ রোজা কাজা থেকে থাকে, তবে এখনই তা দ্রুত আদায় করে নিন। আম্মাজান আয়েশা (রা.) তাঁর কাজা আলোগুলো শাবান মাসেই সম্পন্ন করতেন।
৫. পর্যাপ্ত ইলম বা জ্ঞান অর্জন
রোজা ভঙ্গের কারণ, রোজার আদব এবং তারাবি ও যাকাতের মাসআলাগুলো রমযান আসার আগেই জেনে নিন। সঠিক জ্ঞান ছাড়া ইবাদত অপূর্ণ থেকে যায়।
৬. ব্যস্ততা কমিয়ে আনা
রমযানে ইবাদতে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এমন সাংসারিক বা ব্যবসায়িক কাজগুলো এখনই গুছিয়ে ফেলুন। যাতে রমযানের দিনগুলো কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে ব্যয় করা যায়।
৭. পরিবারকে সম্পৃক্ত করা
রমযানের প্রস্তুতি একা নয়, সপরিবারে নিন। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বসুন, তাদেরকে রোজার ফজিলত শোনান এবং ছোটদেরকে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী রোজা রাখতে উৎসাহিত করুন।
৮. শাবান মাসে নফল রোজা রাখা
রাসূলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসে সবচেয়ে বেশি নফল রোজা রাখতেন। এটি রমযানের ফরজ রোজার জন্য শরীর ও মনকে প্রস্তুত করার একটি চমৎকার মহড়া (Warm-up)।
৯. কুরআনের সাথে মিতালী
শাবান মাসকে বলা হতো 'ক্বারীদের মাস'। পূর্বসূরীগণ এই মাস থেকেই তিলাওয়াতের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতেন। আবু বকর আল-বালাখী (রহ.) সুন্দর করে বলেছেন:
"রজব মাস হলো বীজ বপনের মাস, শাবান মাস হলো সেচ প্রদানের মাস এবং রমযান মাস হলো ফসল তোলার মাস।"
১০. দান-সদকার পরিকল্পনা
অসহায়দের সাহায্য করার জন্য এবং মাসজিদের ইফতার বা দ্বীনি কাজের জন্য এখনই কিছু বাজেট বা বই প্রস্তুত রাখুন।
মূলকথা: রজব বিদায় নিয়েছে, শাবানও শেষের দিকে। আপনি যদি বীজ বপন না করেন এবং সেচ প্রদান না করেন, তবে রমযানে ফসল তোলার আশা করা কি সাজে? আসুন, উৎসবের আমেজ সরিয়ে আমরা ইবাদতের আমেজে নিজেদের প্রস্তুত করি।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
প্রথমত :
সম্মানিত ভাই, আপনি প্রশ্নটি করে বেশ ভাল করেছেন। কারণ আপনি রমযান মাসের প্রস্তুতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন যখন সিয়ামের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে বহু মানুষের ধ্যান ধারণা বিকৃত হয়েছে। তারা এই মাসকে খাদ্য, পানীয়, মিষ্টি-মন্ডা, রাত জাগা ও স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর মৌসুম বানিয়ে ফেলেছে। আর এ জন্য তারা রমযান মাসের বেশ আগ থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করে এই আশংকায় যে কিছু খাদ্য দ্রব্য কেনা বাদ পড়তে পারে বা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই তারা খাদ্য দ্রব্য কিনে, হরেক রকম পানীয় প্রস্তুত করে এবং কী অনুষ্ঠান দেখবে আর কী দেখবে না তা জানতে স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর গাইড খোঁজ খবর করে প্রস্তুতি নেয়।
আর এভাবে তারা রমযান মাসের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সত্যিকার অর্থেই অজ্ঞ থেকে গেল। তারা এ মাস থেকে ‘ইবাদাত ও তাক্ব্ওয়া সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন করে নিল এবং একে তাদের উদরপূর্তি ও চক্ষুবিলাসের সামগ্রীতে পরিণত করল।
দ্বিতীয়ত :
অপরদিকে অন্যরা রমযান মাসের সিয়ামের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সচেতন হয়ে শা‘বান মাস থেকেই এর প্রস্তুতি নিতে শুরু করে, এমনকি তাদের কেউ কেউ এর আগ থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।
রমযান মাস উপলক্ষে প্রস্তুতি নেয়ার কিছু প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হল:
১. সত্যিকার তাওবাহ
আর এটি সবসময়ের জন্যই ওয়াজিব, তবে যেহেতু এক মহান মুবারাক (বরকতময়) মাসের দিকে সে এগিয়ে যাচ্ছে তাই তার ও তার রবের মাঝে যে গুনাহগুলো আছে এবং তার ও মানুষের মাঝে যে অধিকারসমূহ রয়েছে সেগুলো থেকে দ্রুত তাওবাহ করার জন্য তার আরও বেশি তৎপর হওয়া উচিৎ; যাতে করে সে এই মুবারক (বরকতময়) মাসে পবিত্র মন ও প্রশান্ত হৃদয় নিয়ে প্রবেশ করে আনুগত্য ও ‘ইবাদাতে মশগুল হতে পারে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন :
﴿وَتُوبُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ ٣١ ﴾ [النور: ٣١]
“আর তোমরা সবাই, হে মু’মিনেরা, আল্লাহ্র কাছে তাওবাহ কর যাতে করে সফলকাম হতে পার।” [সূরা আন-নূর: ৩১]
আল-আগার ইব্ন ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
وعَنْ الأَغَرَّ بن يسار رضي الله عنه عن النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ( يَا أَيُّهَا النَّاسُ تُوبُوا إِلَى اللَّهِ فَإِنِّي أَتُوبُ فِي الْيَوْمِ إِلَيْهِ مِائَةَ مَرَّةٍ) رواه مسلم (2702)
“হে লোক সকল, আপনারা আল্লাহ্র কাছে তাওবাহ করুন কারণ, আমি দিনে তাঁর কাছে ১০০ বার তাওবাহ করি।” [মুসলিম (২৭০২)]
২. দো‘আ পাঠ
কোনো কোনো পূর্বসূরী (সাহাবীগণ, তাবি‘ঈনগণ .....) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তাঁরা ৬ মাস ধরে আল্লাহ্র কাছে দো‘আ করতেন যাতে তিনি তাঁদের রমযান মাস পাওয়ার তাওফীক্ব দেন, এরপর (রমযান শেষে) ৫ মাস ধরে এই দো‘আ করতেন যেন (রমযানের আ‘মালসমূহ) তাদের কাছ থেকে কবুল করা হয়।
তাই একজন মুসলিম তার রবের কাছে দো‘আ করবে যাতে তিনি তাকে রমযান মাস পাবার তাওফীক্ব দেন সর্বোত্তম দ্বীনি অবস্থা ও শারীরিক সুস্থতার মাঝে এবং তাঁর কাছে এই দো‘আ করবে যাতে তিনি তাকে তাঁর আনুগত্যে সাহায্য করেন এবং তাঁর কাছে এই দো‘আ করবে যাতে তিনি তার আমল কবুল করেন।
৩. এই মহান মাসের আসন্ন আগমনে আনন্দিত হওয়া
রমযান মাসের আগমন একজন মুসলিম বান্দার প্রতি আল্লাহ্র সুমহান নি‘আমাতগুলোর (অনুগ্রহসমূহের) একটি, কারণ রমযান কল্যাণময় একটি মওসুম। এ মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। এটি হল ক্বুর‘আনের মাস, আমাদের দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ, চূড়ান্ত সংগ্রামের মাস। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন :
﴿قُلۡ بِفَضۡلِ ٱللَّهِ وَبِرَحۡمَتِهِۦ فَبِذَٰلِكَ فَلۡيَفۡرَحُواْ هُوَ خَيۡرٞ مِّمَّا يَجۡمَعُونَ ٥٨ ﴾ [يونس: ٥٨]
“বলুন, আল্লাহ্র অনুগ্রহে ও তাঁর দয়ায়, অতঃপর এর দ্বারা তারা আনন্দিত হোক; তা, তারা যা সঞ্চয় করে তা থেকে উত্তম।” [ইঊনুস : ৫৮]
৪. ওয়াজিব সিয়াম হতে নিজেকে দায়িত্ব মুক্ত করা
আবূ সালামাহ হতে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন :
عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ : سَمِعْتُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا تَقُولُ : »كَانَ يَكُونُ عَلَيَّ الصَّوْمُ مِنْ رَمَضَانَ فَمَا أَسْتَطِيعُ أَنْ أَقْضِيَهُ إِلا فِي شَعْبَانَ« . رواه البخاري (1849) ومسلم (1146)
“আবু সালামাহ বলেন, আমি ‘আয়েশাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহাকে বলতে শুনেছি, “আমার উপর বিগত রমযানের সাওম বাকি থাকত যার কাযা আমি শা‘বান ছাড়া আদায় করতে পারতাম না।”
[বুখারী (১৮৪৯) ও মুসলিম (১১৪৬)]
হাফিজ ইব্নু হাজার-রাহিমাহুল্লাহ- বলেছেন :‘এ হাদীস দ্বারা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা কর্তৃক শা‘বান মাসে রমযানের সিয়াম পালনের চেষ্টা প্রমাণ করে যে, এক রমযান এর কাযা আরেক রমযান প্রবেশ করা পর্যন্ত দেরী করা জায়েয নয়।” [ফাতহুল বারী (৪/১৯১)]
৫. পর্যাপ্ত ‘ইল্ম (জ্ঞান) অর্জন করা, যাতে সিয়ামের হুকুম-বিধি-বিধান এবং রমযান মাসের মর্যাদা সম্পর্কে জানা যায়।
৬. রমযান মাসের ‘ইবাদাত থেকে একজন মুসলিমকে বিরত করতে পারে এমন কাজসমূহ দ্রুত সম্পন্ন করে ফেলা।
৭. পরিবারের সদস্যবর্গ যেমন-স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে বসে তাদেরকে সিয়ামের বিধি-বিধান শিক্ষা দেয়া এবং ছোটদের সিয়াম পালনে উৎসাহিত করা।
৮. কিছু বই প্রস্তুত করা যা বাড়িতে বসে পড়া সম্ভব বা মাসজিদের ইমামকে উপহার দেয়া, যা তিনি রমযান মাসে লোকদের পড়ে শোনাবেন।
৯. রমযান মাসের প্রস্তুতিস্বরূপ শা‘বান মাস থেকেই সিয়াম পালন শুরু করা।
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ لا يُفْطِرُ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ لا يَصُومُ، فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَكْمَلَ صِيَامَ شَهْرٍ إِلا رَمَضَانَ، وَمَا رَأَيْتُهُ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ . رواه البخاري ( 1868 ) ومسلم ( 1156 )
‘আয়েশাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা-থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে সিয়াম পালন করতেন যে আমরা বলতাম তিনি আর সিয়াম ভঙ্গ করবেন না এবং এমনভাবে সিয়াম ভঙ্গ করতেন যে আমরা বলতাম, তিনি আর সিয়াম পালন করবেন না। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রমযান ছাড়া অন্য কোন মাসের গোটা অংশ সাওম পালন করতে দেখি নি এবং শা‘বান ছাড়া অন্য কোনো মাসে অধিক সিয়াম পালন করতে দেখি নি।” [বুখারী (১৮৬৮) ও মুসলিম (১১৫৬)]
عَنْ أُسَامَة بْن زَيْدٍ قَالَ : قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ لَمْ أَرَكَ تَصُومُ شَهْرًا مِنْ الشُّهُورِ مَا تَصُومُ مِنْ شَعْبَانَ ، قَالَ: (ذَلِكَ شَهْرٌ يَغْفُلُ النَّاسُ عَنْهُ بَيْنَ رَجَبٍ وَرَمَضَانَ ، وَهُوَ شَهْرٌ تُرْفَعُ فِيهِ الأَعْمَالُ إِلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ فَأُحِبُّ أَنْ يُرْفَعَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ) . رواه النسائي ( 2357 ) وحسَّنه الألباني في " صحيح النسائي "
‘উসামাহ ইব্ন যাইদ হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনাকে শা‘বান মাসের মত অন্য কোনো মাসে এত সাওম পালন করতে দেখিনি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “এটি রজব ও রমযানের মধ্যবর্তী একটি মাস, যখন মানুষ গাফিল হয় এবং এমন মাস যখন আমলসমূহ রাব্বুল ‘আলামীনের কাছে উঠানো হয়। তাই আমি পছন্দ করি যে আমার আমল আমি সাওম পালন রত অবস্থায় উঠানো হবে।” [নাসা’ঈ (২৩৫৭) এবং আলবানী একে সহীহ আন-নাসায়ীতে একে হাসান বলেছেন।]
শা‘বান মাসের সাওম পালনের হিকমতের বর্ণনায় হাদীসে এসেছে যে এটি এমন মাস যখন আমলসমূহ উঠানো হয়। ‘আলিমগণের মাঝে কেউ কেউ অন্যান্য হিক্মাহসমূহ উল্লেখ করেছেন, আর তা হল শা‘বানের সাওম ফরয নামাযের পূর্বের সুন্নাহ্র মত যা ফরয আদায়ে মনকে প্রস্তুত করে ও উৎসাহ যোগায়। ঠিক একই বক্তব্য প্রযোজ্য রমযানের পূর্বে শা‘বানের সিয়ামের ক্ষেত্রে।
১০. কুরআন তিলাওয়াত:
সালামাহ ইব্ন কুহাইল বলেছেন : “শা‘বান মাসকে ক্বারীগণের মাস বলা হত।”
আম্র ইব্ন ক্বাইস, শা‘বান মাস শুরু হলে, তাঁর দোকান বন্ধ করে কুরআন তিলাওয়াতের জন্য অবসর নিতেন।
আবূ বাক্র আল-বালাখী বলেছেন : “রাজাব মাস হল বীজ বপনের মাস, শা‘বান মাস হল ক্ষেতে সেচ প্রদানের মাস এবং রমযান মাস হল ফসল তোলার মাস।”
তিনি আরও বলেছেন : “রাজাব মাসের উদাহরণ হল বাতাসের ন্যায়, শা‘বান মাসের উদাহরণ মেঘের ন্যায়, রমযান মাসের উদাহরণ বৃষ্টির ন্যায় ; তাই যে রাজাব মাসে বীজ বপন করল না, শা‘বান মাসে সেচ প্রদান করল না, সে কীভাবে রমযান মাসে ফসল তুলতে চাইতে পারে?”
এখন রাজাব মাস গত হয়েছে, আর আপনি শা‘বান মাসে কি করবেন যদি রমযান মাস পেতে চান? এ হল এই বরকতময় মাসে আপনার নবী ও উম্মাতের পূর্বসূরীগণের অবস্থা। এ সমস্ত আমল ও মর্যাদাপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে আপনার অবস্থান কী হবে?
