কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই: একটি কালজয়ী গান



কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই: একটি কালজয়ী গান

"কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই" গানটি বাংলা গানের জগতে একটি অমর সৃষ্টি। গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা ও সুপর্ণকান্ত ঘোষের সুরে এই গানে কন্ঠ দেন মান্না দে।

এই গানটি মূলত কফি হাউজ নামক একটি বিশেষ জায়গাকে কেন্দ্র করে লেখা, যা তৎকালীন বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের মিলনস্থল ছিল। এখানে কবি, লেখক, শিল্পী, ও রাজনৈতিক কর্মীদের আড্ডার মাধ্যমে গড়ে উঠেছিল এক অনন্য সাংস্কৃতিক পরিবেশ। গানের প্রতিটি কথায় ফুটে ওঠে সেই সময়ের বন্ধুত্বের গল্প, আর স্বপ্নভঙ্গের করুণ অনুভূতি।

গানের গল্পে উঠে এসেছে সাত বন্ধুর জীবন। এদের মধ্যে কেউ কবি, কেউ গায়ক, কেউ গবেষক, আবার কেউ জীবনের কঠিন বাস্তবতায় হারিয়ে গেছে। তাদের একসময়ের স্বপ্নময় দিনগুলো যেন কফি হাউসের প্রতিটি টেবিল আর চেয়ারের মধ্যে মিশে আছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবাই আলাদা পথে চলে গেছে, আর কফি হাউসের সেই আড্ডাগুলি স্মৃতির মণিকোঠায় বন্দি হয়ে গেছে।

গানের জনপ্রিয়তার পেছনে কারণ ছিল এর গভীর অনুভূতি আর সহজ কথামালা। এটি কেবল একটি গান নয়; এটি জীবনের এক মর্মস্পর্শী চিত্র। বাঙালির আবেগ আর স্মৃতির সঙ্গে এই গানের গভীর সংযোগের কারণেই এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সমানভাবে জনপ্রিয়।

বর্তমান সময়েও, যখন জীবনের গতিবেগ অনেক দ্রুত, এই গানটি মানুষকে থমকে দিয়ে পুরনো দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। বন্ধুত্ব, স্বপ্ন আর হারানোর বেদনা—এই তিনটি অনুভূতির মিশ্রণে গড়া এই গানটি আমাদের শেখায়, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্য দিতে।

"কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই" কেবল একটি গান নয়; এটি সময়ের এক অনন্য দলিল।

ইউটিউবে "কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই''

[embed width="720" height="240"]https://www.youtube.com/watch?v=rxgiiYAP8W0[/embed]

Song Lyrics:

কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই

আজ আর নেই

কোথায় হারিয়ে গেল সোনালী বিকেলগুলো সেই

আজ আর নেই

নিখিলেশ প্যারিসে, মইদুল ঢাকাতে, নেই তারা আজ কোন খবরে

গ্রান্ডের গিটারিষ্ট গোয়ানিস ডিসুজা ঘুমিয়ে আছে যে আজ কবরে

কাকে যেন ভালবেসে আঘাত পেয়ে যে শেষে

পাগলা গারদে আছে রমা রায়

অমলটা ধুকছে দুরন্ত ক্যানসারে জীবন করেনি তাকে ক্ষমা হায়

কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই

আজ আর নেই

কোথায় হারিয়ে গেল সোনালী বিকেলগুলো

সেই আজ আর নেই

সুজাতাই আজ শুধু সবচেয়ে সুখে আছে

শুনেছি তো লাখপতি স্বামী তার

হীরে আর জহরতে আগা গোড়া মোড়া সে

গাড়ি বাড়ি সব কিছু দামী তার

আর্ট কলেজের ছেলে নিখিলেশ স্যান্যাল

বিজ্ঞাপনের ছবি আঁকতো

আর চোখ ভরা কথা নিয়ে নির্বাক স্রোতা হয়ে

ডিসুজা টা বসে শুধু থাকতো

কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই

আজ আর নেই

একটা টেবিলে সেই তিনচার ঘন্টা চারমিনার ঠোঁটে জ্বলতো

কখনো বিষ্ণু দে কখনো যামিনী রায় এই নিয়ে তর্কটা চলতো

রোদ ঝড় বৃষ্টিতে যেখানেই যে থাকুক কাজ সেরে ঠিক এসে জুটতাম

চারটেতে শুরু করে জমিয়ে আড্ডা মেরে সাড়ে সাতটায় ঠিক উঠতাম

কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই

আজ আর নেই

কবি কবি চেহারা কাঁধেতে ঝোলানো ব্যাগ মুছে যাবে অমলের নামটা

একটা কবিতা তার হলোনা কোথাও ছাপা পেলনা সে প্রতিভার দামটা

অফিসের সোস্যালে ম্যামেচার নাটকে রমা রায় অভিনয় করতো

কাগজের রিপোর্টার মইদুল এসে রোজ কি লিখেছে তাই শুধু পড়তো

কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই

আজ আর নেই

কোথায় হারিয়ে গেল সোনালী বিকেল গুলো সেই

আজ আর নেই

সেই সাতজন নেই আজ, টেবিলটা তবু আছে

সাতটা পেয়ালা আজো খালি নেই

একই সে বাগানে আজ এসেছে নতুন কুঁড়ি

শুধু সেই সেদিনের মালি নেই

কত স্বপ্নের রোদ ওঠে এই কফি হাউজে

কত স্বপ্ন মেঘে ঢেকে যায়

কতজন এলো গেল কতজনই আসবে

কফি হাউজটা শুধু থেকে যায়

কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই

আজ আর নেই

কোথায় হারিয়ে গেল সোনালী বিকেলগুলো সেই

আজ আর নেই

কোথায় হারিয়ে গেল সোনালী বিকেলগুলো সেই

আজ আর নেই


Previous Post Next Post
Premium By Raushan Design With Shroff Templates