যে ৭ অভ্যাস স্বাস্থ্য নষ্ট করে দেয়



আমরা প্রতিদিন নানা ধরনের অভ্যাসের মাধ্যমে আমাদের শরীরকে প্রভাবিত করি, কিন্তু কিছু অভ্যাস এমন রয়েছে, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এই অভ্যাসগুলো দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে। চলুন, দেখে নিই এমন ৭টি অভ্যাস যা আমাদের স্বাস্থ্য নষ্ট করে দেয়।

১. অল্প ঘুমানো

শরীরের পূর্ণ বিশ্রামের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে অনেকেই দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরিবর্তে কম ঘুমানোর অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন। অল্প ঘুম শরীরকে সঠিকভাবে পুনরুজ্জীবিত হতে দেয় না, যার ফলে দীর্ঘমেয়াদী ক্লান্তি, মানসিক চাপ এবং হৃদরোগের মতো সমস্যা হতে পারে।

২. অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া

ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত চিনি ও ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবারের প্রতি আসক্তি শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এসব খাবারে পুষ্টির অভাব থাকে এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের কারণে মেদ জমে যায়, যা স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

৩. পানির অভাব

প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না খাওয়ার ফলে শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দেয়, যা নানা স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। পানি না খাওয়ার কারণে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয়, হজমের সমস্যা এবং কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

৪. অতিরিক্ত স্ট্রেস নেয়া

মানসিক চাপ আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। স্ট্রেস শরীরে কর্টিসল হরমোনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে, যা দীর্ঘমেয়াদী উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। সঠিক মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য স্ট্রেস কমানোর চেষ্টা করা উচিত।

৫. ধূমপান

ধূমপান কেবল শ্বাসতন্ত্রকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, এটি হৃদরোগ, ক্যান্সার, স্ট্রোক এবং অন্যান্য গুরুতর রোগের কারণও হতে পারে। তামাকের মধ্যে যে রাসায়নিক পদার্থ থাকে, তা শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

৬. সঠিকভাবে শরীরচর্চা না করা

বর্তমানে অফিসের কাজ বা অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে অনেকেই নিয়মিত শরীরচর্চা করেন না। তবে, শরীরচর্চা না করলে হাড়, মাংসপেশী দুর্বল হয়ে যায় এবং স্ট্রেস বা শারীরিক অস্বস্তি দেখা দেয়। নিয়মিত ব্যায়াম করলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে, হৃৎস্পন্দন সঠিক থাকে এবং মানসিক সুস্থতা বজায় থাকে।

৭. মাদকদ্রব্য সেবন

মাদকদ্রব্যের প্রতি আসক্তি যেমন মদ্যপান বা ড্রাগস গ্রহণ শরীর ও মনের উপর বিপর্যয়কর প্রভাব ফেলে। এসব দ্রব্য শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি করে, মানসিক অস্থিরতা তৈরি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক রোগ সৃষ্টি করতে পারে।

Previous Post Next Post
Premium By Raushan Design With Shroff Templates