সিনেমা: অজ্ঞাতনামা (রিভিউ)

  


অজ্ঞাতনামা  সিনেমা তার পরিচালিত চতুর্থ চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটি ২০১৫ সালে একুশে বইমেলায় নিজের প্রকাশিত অজ্ঞাতনামা বইয়েরই চলচ্চিত্রায়ন। মানবপাচারের কাহিনি নিয়ে নির্মিত এই ছায়াছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, মোশাররফ করিম, ফজলুর রহমান বাবু ও নিপুণ আক্তার।

সূচীপত্র

ক্রমিক নং

বিষয় 

পেজ নং
01 সিনেমার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি০২
02প্রধান কলাকুশলী০৩
03প্রধান অভিনেতা-অভিনেত্রী০৪
04নির্মাণ০৫
05প্রদর্শন০৬
06কাহিনি সংক্ষেপ০৭
07সারাংশ১১
08মূল্যায়ন১২
09 শিক্ষা১৩
10সূত্র১৪

পেজ নং_ ২

সিনেমার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

সিনেমার নাম: ‘অজ্ঞাতনামা’।
সিনেমার বৈশিষ্ট্য: জীবনধর্মী।
সিনেমার ধরন: পূর্ণ দৈর্ঘ্য ছায়াছবি।
ফরম্যাট: ডিজিটাল।
রং: রঙিন।
মুক্তি: ১৯ আগষ্ট ২০১৬।
দৈর্ঘ্য: ১০০ মিনিট।
দেশ: বাংলাদেশ।
ভাষা: বাংলা।

পুরষ্কার:

পুরষ্কারবছরফলাফলবিভাগগ্রহীতা
বাচসাস পুরস্কার ২০১৬জয়ী শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক পিন্টু ঘোষ
বাচসাস পুরস্কার ২০১৬জয়ীশ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতাফজলুর রহমান বাবু
বাচসাস পুরস্কার ২০১৬জয়ীশ্রেষ্ঠ পরিচালকতৌকীর আহমেদ
বাচসাস পুরস্কার ২০১৬জয়ীশ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র 
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৬জয়ীশ্রেষ্ঠ কাহিনীতৌকীর আহমেদ
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৬জয়ীশ্রেষ্ঠ খল অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৬জয়ীশ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র 

পেজ নং_ ৩

প্রধান কলাকুশলী

  1. পরিচালক: তৌকির আহমেদ।
  2. প্রযোজক: ফরিদুর রেজা সাগর।
  3. চিত্রনাট্যকার: তৌকির আহমেদ।
  4. কাহিনিকার: তৌকির আহমেদ।
  5. সুরকার: পিন্টু ঘোষ।
  6. চিত্রগ্রাহক: এনামুল হক সোহেল।
  7. সম্পাদক: অমিত দেবনাথ।
  8. পরিবেশক: ইমপ্রেস টেলিফিল্ম।
  9. সঙ্গীত পরিচালক: পিন্টু ঘোষ।
  10. গীত রচনা: তৌকির আহমেদ।
  11. গানে কণ্ঠ দিয়েছেন: রোকন ইমন, সুকন্যা মজুমদার ও পিন্টু ঘোষ।

পেজ নং_ ৪

প্রধান অভিনেতা-অভিনেত্রী

  1.  শহীদুজ্জামান সেলিম - রমজান আলী, আদমজী ব্যবসায়ী।
  2.  মোশাররফ করিম - ফরহাদ, পুলিশ কর্মকর্তা।
  3.  নিপুণ আক্তার - বিউটি, বিদেশ গমনে ইচ্ছুক বিধবা।
  4. ফজলুর রহমান বাবু - কিফায়েত উদ্দিন প্রামাণিক, বিদেশে নাম-পিতৃপরিচয় গোপন করে বিদেশ যাওয়া আসির উদ্দিন প্রামাণিকের বাবা।
  5.  শতাব্দী ওয়াদুদ - এম এ কুদ্দুস, কালুখালী থানার ওসি।
  6.  আবুল হায়াত - শেখ আব্দুল হাকিম, শেখ আব্দুল ওয়াহাবের বাবা।
  7.  শাহেদ শরীফ খান - শেখ আব্দুল ওয়াদুদ, শেখ আব্দুল হাকিমের ছেলে।
  8.  শাহেদ আলী - রহমান, কিফায়েত উদ্দিন প্রামাণিকের ভাতিজা।
  9.  রোবেনা রেজা জুঁই - শেফালী, আসিরের স্ত্রী।
  10.  ইকবাল বাবু - জাহাঙ্গীর মোল্লা, ট্রাক ড্রাইভার।

পেজ নং_ ৫

নির্মাণ

চিত্রনাট্য উন্নয়ন
“অজ্ঞাতনামা” চলচ্চিত্রের গল্প ধারণ করা হয়েছে তৌকীর আহমেদের একই নামের মঞ্চনাটক থেকে। চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য আরও আগে রচনা করলেও তার নিজের (পরিচালক) রিসোর্ট নক্ষত্রবাড়ি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় দীর্ঘ আট বছর পর তিনি চলচ্চিত্র পরিচালনায় মনোযোগ দেন। ছবিটি প্রযোজনা করে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম।

চলচ্চিত্রের গল্প প্রসঙ্গে পরিচালক তৌকীর বলেন, "আমাদের দেশের বিশাল একটা জনগোষ্ঠী মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাজ করছে। আমাদের অর্থনীতি তাদের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।

অথচ এসব মানুষের প্রতি আমরা মনোযোগী নই। এসব মানুষের জীবনের একটি অধ্যায় নিয়ে নির্মিত হবে ‘অজ্ঞাতনামা’, যেখানে তাদের প্রতি আমাদের যে অবহেলা, তা-ই তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে।

অভিনয়শিল্পী নির্বাচন

অভিনয়শিল্পী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তৌকীর চরিত্র অনুযায়ী যাদেরকে প্রয়োজন তাদের নির্বাচন করেন। এতে পুলিশ কর্মকর্তা ফরহাদ চরিত্রে অভিনয় করেন মোশাররফ করিম। তিনি তৌকীরের পূর্ববর্তী সবকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন।

তার সাথে পুনরায় কাজের প্রসঙ্গে মোশাররফ বলেন, "তিনি একজন দক্ষ নির্মাতা। আমি দারুণ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি তার নির্দেশনায় কাজ করতে। সবচেয়ে বড়ো কথা হল, নতুন কিছু শেখা যায় তার সাথে কাজ করলে।"

বিদেশ গমনে ইচ্ছুক বিধবা বিউটি চরিত্রে অভিনয় করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ী অভিনেত্রী নিপুণ। তৌকীরের সাথে এটি তার প্রথম কাজ। ফজলুর রহমান বাবু বিদেশে নাম-পিতৃপরিচয় গোপন করে বিদেশ যাওয়া ছেলের বাবা চরিত্রে অভিনয় করেন।

তিনি বলেন, "লাশ ফিরে পাওয়ার জন্য বাবার যে আকুলতা সেটি ফুটিয়ে তুলতে কষ্ট করতে হয়েছে আমাকে।"

চিত্রায়ন

চলচ্চিত্রের চিত্রায়ন শুরু হয় ২০১৫ সালের মে মাস থেকে এবং শুটিং চলে জুন মাস পর্যন্ত। রাজবাড়ীর পাংশা, গোয়ালন্দ এবং ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে ছবিটির চিত্রায়ন করা হয়।

পেজ নং_ ৬

প্রদর্শন

২০১৬ সালের ১৯ এপ্রিল অজ্ঞাতনামা চলচিত্রটি বাংলাদেশ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। অল্প সংখ্যক প্রেক্ষাগৃহেই মুক্তি পায় অজ্ঞাতনামা। ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্স, ব্লকবাস্টার সিনেমাসহ শ্যামলী, আনন্দ, ময়মনসিংহের পুরবী, যশোরের মণিহার, মধুপুরের মাধবী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় সিনেমাটি।

অজ্ঞাতনামা সিনেমাটি ২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে দেখানো হয় ‘নতুন চলচ্চিত্র নতুন নির্মাতা চলচ্চিত্র উৎসব’-এর নভেম্বর মাসের প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে। কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শন কার হয় অজ্ঞাতনামা।

এছারাও চলচ্চিত্রটি ২০১৬ সালের ১৭ মে ৬৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে বাণিজ্যিক শাখায় প্রদর্শিত হয়। ইতালির গালফ অফ ন্যাপলস ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভালে ২১ মে প্রদর্শিত হয়।

অজ্ঞাতনামা চলচ্চিত্রটি ২০১৭ সালের ৫ই আগস্ট “চ্যানেল আই টিভি” নামক ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার করা হয়। যেখানে চলচিত্রটি মোট আট লক্ষ ২০ হাজার বারের উপরে দেখা হয়েছে।

এছারাও ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর “চ্যানেল আই মুভিস” নামের আরেকটি ইউটিউব চ্যানেলে পূনরায় প্রচার করা হয়। সেখান থেকে প্রায় ৩৪ হাজারের উপরে দর্শক চলচ্চিত্র দেখেছে।

পেজ নং_ ৭

কাহিনি সংক্ষেপ

এক বৃদ্ধ তার নাতীকে নিয়ে বাজার থেকে ফিরছে। ফেরার পথে তারা একটি মরা পাখিকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে। পাখিটিকে তারা মাটিতে পুতে দিয়ে আসে। শেফালীর বাড়িতে এসে তার স্বামী প্রবাসী আছির উদ্দিনের খোঁজ করে বিউটি (বিধবা)। শেফালী বারবার তার স্বামীর খোঁজ নিতে আসা বিউটির উপর বিরক্ত।

প্রথম দৃশ্যের সেই বৃদ্ধ কিফায়েত উদ্দিনও (যিনি শেফালীর শ্বশুর) বিউটির উপর বিরক্ত। সে বিউটিকে তার বাড়িতে আসতে নিষেধ করে দেয়। এদিকে বিদেশে কর্মরত আছিরের দীর্ঘদিন যাবত কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না। এই নিয়ে উদ্বিগ্ন শেফালি-কেফায়েত উদ্দিনসহ পুরো পরিবার।

বিউটির বাড়িতে পুলিশ কর্মকর্তা ফরহাদ তার বিদেশ যাওয়ার পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের ব্যাপারে জানাতে আসে। সেই সময়ে বিউটির বিদেশে যেতে সহায়তাকারী রমজান দালাল তার বাড়িতে আসে। রমজান দালাল আসায় ফরহাদ খাটের নিচে লুকিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে পুলিশ কর্মকর্তা ফরহাদের ফোনে কল আসে, বিউটি সেটাকে নিজের ফোন বলে জানান রমজানকে।

কিন্তু বিউটি রান্না করতে গেলে কাশি দেন ফরহাদ। এতে রমজান দালাল ঘরে ফরহাদের উপস্থিতি টের পেয়ে যায়। বিউটির তাকে তার খালাতো ভাই হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। কিন্তু বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখে রমজান দালাল। এক পর্যায়ে কথা বলার মাঝে দৌড়ে পালিয়ে যায় ফরহাদ।

কালুখালী থানার ওসি এম এ কুদ্দুস থানায় এসে দেখে সেখানকার কর্তব্যরত কর্মকর্তা থানায় নেই। সেই সময়ে থানায় একটি ফোন আসে। কুদ্দুস ফোন ধরে কিছুক্ষণ কথা বলে। এরপর কর্তব্যরত কর্মকর্তা ফরহাদকে ডেকে পাঠাতে বলে। কিন্তু ফরহাদকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খোঁজাখুজির পর ফরহাদ আসলে কুদ্দুস জানায় যে বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে ফোন এসেছে, মধ্য প্রাচ্য থেকে একটি লাশ এসেছে। চোপগাছা গ্রামে খবর জানাতে হবে।

সেদিন আকাশে প্রচণ্ড মেঘ ছিলো। বৃষ্টি আসতে পারে তাই না যেতে টাল-বাহানা করে ফরহাদ। কিন্তু ওসি যেকোনো মূল্যে সেই রাতেই চোপগাছা যেতে চায়। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির মধ্যেই ওসি কুদ্দুস, কর্তব্যরত কর্মকর্তা ফরহাদ ও আরও দুজন কর্মকর্তা লাশের খবর জানাতে ট্রলারে যোগে সেই গ্রামে যায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন মৃত্য ব্যক্তির যে নাম-ঠিকানা দেওয়া হয়েছে, সেই শেখ আব্দুল ওয়াহাব জীবিত আছেন। সে মধ্যপ্রাচ্যে না ইতালিতে থাকে।

ওয়াহাবের সাথে ফোনে কথা বলে জানা যায়- এই গোলমালের পিছনে রয়েছে রমাজান দালাল। পাশের গ্রাম থেকে রমজান দালালকে ডেকে আনার পর তার কাছ থেকে জানা যায়- ওয়াহাবের পাসপোর্ট সে কিফায়েত উদ্দিনের ছেলে আসির উদ্দিন প্রামাণিকের কাছে স্বল্প টাকায় বিক্রি করে।

সেই আসির উদ্দিন মারা গেছে। আছিরের বাড়িতে গিয়ে দুঃসংবাদটি জানানো হয়। খবর শোনার পর আছিরের পিতা, কেফায়েত উদ্দিন প্রামাণিকের যেন মুখ দিয়ে কথা বেরোয় না। সে হতভম্বের মত শুধু চেয়ে থাকে।

 

 প্রবাসী আছির উদ্দিনের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে শোকাহত স্ত্রী শেফালীপ্রবাসী আছির উদ্দিনের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে শোকাহত স্ত্রী শেফালী

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিফায়েত উদ্দিন, তার ভাতিজা রহমান ও রমজান দালাল ঢাকা গিয়ে লাশ গ্রহণ করবে। কিন্তু ঝামেলা সৃষ্টি হয় লাশ আনার খরচ নিয়ে। গ্রামবাসী এবং রমজান দালাল কিছু টাকা দেয় আর বাকী টাকা কিফায়েত প্রামাণিক ভিটা বন্ধক রেখে দেন।

ওসি কুদ্দুস তাদের বলে দেয় এয়ারপোর্টে নাম সংক্রান্ত ঝামেলা এড়াতে আব্দুল ওয়াবের আত্মীয় পরিচয়ে লাশ গ্রহণ করতে। আর আসিরের পরিচয় না দিতে।

রাতে রমজান দালাল এয়ারপোর্টে যেনো নাম বলতে সমস্যা না হয় সেজন্য অনুশীলন করাতে চায় কিন্তু কিফায়েত প্রমাণিক নিজের নাম আর ছেলের নামই বলায় তাকে মারধর করে রমজান দালাল। পরের দিন তারা ট্রাক নিয়ে ঢাকা যায় লাশ গ্রহণ করতে।

 

মৃত্য প্রবাসী আছির উদ্দিনের লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন বাবা কিফায়েত উদ্দিন

সেখানে কিফায়েত প্রমাণিক আসির উদ্দিন বলে কান্নাকাটি করলে কাস্টমস অফিসার গোলমালের ব্যাপারটা ধরতে পারে। সেখানে ঘুষ দিয়ে ছাড়িয়ে আনে রমজান দালাল।

নদী পার হতে ট্রলারে লাশ উঠাতে না চাইলে সেখানে সরকার লাশ বলে বিপদের ভয় দেখিয়ে ট্রলার যোগে লাশ বাড়ি নিয়ে যায়।

বাড়িতে নিয়ে আসার পরে লাশ গোসল করাতে গিয়ে দেখা যায় লাশের সুন্নতে খাৎনা হয় নাই। তখন কিফায়েত প্রমাণিক লাশ দেখে বলে এটা আমার আসিরের লাশ না। অন্য কারো লাশ। লাশ আবারো থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ওসি এম এ কুদ্দুস তাদেরকে লাশ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে যেতে বলে। সাথে সিভিলে কর্তব্যরত কর্মকর্তা ফরহাদকে পাঠায়। এর মাঝে বিউটির পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিয়ে বিউটির বাড়িতে যায় ফরহাদ।

বিউটি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ছিরে ফেলে বলে সে আর বিদেশ যাবে না। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে লাশ নিয়ে গেলে তারা বলে আমরা প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করি লাশ নিয়ে না। আপনারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান। একই ধরনের কথা বলে পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

সেখান থেকে পাঠানো হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। এরপর সেখান থেকে মর্গ, বারডেম ও অবশেষে বিমান বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও কোন সুরাহা হয় না। এরই মাঝে লাশ পচে গন্ধ বের হতে থাকে। অবস্থা বেগতিক হয়ে যায়। দুর্গন্ধে কেউ গাড়িতে থাকতে পারছিলো না।

 আছির উদ্দিনের লাশ শানাক্ত করছেন বাবা কিফায়েত উদ্দিন, রজমান দালাল ও প্রতিবেশী

শেষ পর্যন্ত ওসি এম এ কুদ্দুস জানায়কে কল দিলে তিনি রমজান দালালকে জানান- তিনি অ্যাম্বাসিতে কথা বলেছেন সত্যিই আছির উদ্দিন মারা গেছে। যে ছয় জন মারা গেছে কারো চেহারা চেনা যায় না।

তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কিফায়েত উদ্দিন প্রামাণিকই এই লাশের দায়িত্ব¡ নিবে এবং তাকে দাফন করবে। অন্তত সে একজন মানুষ। আর মানুষ হিসেবে তার মাটি পাওয়ার অধিকার আছে।

পেজ নং_ ১১

সারাংশ

জীবিকার সন্ধানে বিদেশে পাড়ি দেওয়া শ্রমিক ও তাদের পরিবারের করুণ কাহিনী নিয়ে নির্মিত হয়েছে তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় 'অজ্ঞাতনামা'।

পুরো সিনোমাটিই একজন প্রবাসীর লাশের ঘটনা নিয়ে নির্মিত। ছবিটিতে যেমন দেখানো হয়েছে একটি লাশ নিয়ে বিরম্বনার চিত্র। তেমনি দেখানো আমাদের দেশের প্রসাশনের দায়িত্বে অহবেলার চিত্র।

পাশাপাশি মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের অন্যতম বৈশিষ্ট দেখানো হয়েছে। একজন সন্তানের প্রতি একজন বাবা, ছেলের প্রতি মায়ের কিংবা স্বামীর প্রতি স্ত্রীর ভালোবাসার চিত্রও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে, সন্তানের প্রতি বাবার ভালোবাসার বিষয়টিকে বারবার দেখানো হয়েছে।

পেজ নং_ ১২

মূল্যায়ন

প্রত্যেকটি চলচ্চিত্রেই সাধারণত দুইটি বিষয় দেখানো হয়। একটি হলো- ভালো দিক এবং অপরটি হলো- খারাপ দিক। একই ভাবে এই সিনেটিতেও তেমনটাই দেখানো হয়েছে।

পেজ নং_ ১৩

খারাপ দিক

আমাদের দেশের অর্থনীতিতে গুুরত্বপূর্ন অবদান রাখেন প্রবাসীরা। তারা নিজেদের ভাগ্যন্নোয়নের লক্ষ্যে, পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে শত কষ্ট, প্রচুর অর্থ ব্যয় করে পাড়ি জমায় বিদেশে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে।

সেখানে গিয়ে অনেকেই অত্যাচারের শিকার হয় মালিকের। এসব বেশিরভাগ হয় দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে। দালালেরা নিজ স্বার্থের জন্য সরল স্বপ্ন দেখা মানুষগুলোর সাথে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেয় মোটা অঙ্কের টাকা। এতে দালালদের অবৈধ কার্যক্রম এবং অন্যায় কাজ ফুটেছে উঠেছে।

হতভাগ্য অবহেলিত এই মানুষগুলো বিদেশে কোনো দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করলে তা নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। লাশটি হয় চরম অবহেলার শিকার। রাষ্ট্র কোনো দায়িত্ব নিতে চায় না। পদে পদে তার পরিবারকে শিকার হতে হয় ভোগান্তির।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত ব্যক্তিদের দুর্নীতি, ঘুষ আদান-প্রদানের চিত্রও সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে এই চলচ্চিত্রে। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম, দায়িত্ব থেকে গা-ঝাড়া মনোভাব ফুটে উঠেছে।

ভালো দিক

সারা দুনিয়া ফেলে দিলেও একজন বাবা তার সন্তানকে ফেলে দিতে পারে না। প্রয়োজনে নিজের শেষ সম্বল ভিটা বন্ধক রেখে হলেও সন্তানের লাশ দাফন করবেন।

প্রসাশনের কিছু কর্মকর্তা অসৎ হলেও অনেকেই আছেন যারা সৎ। বাংলাদেশ একটি সম্প্রীতির দেশ, এদেশের মানুষ কারো বিপদ দেখলে এগিয়ে যায়। কোনো মৃত্যু ব্যক্তির দাফনের ব্যবস্থা করে। একজন মানুষের মানুষের মৃত্যুর পর মাটি পাওয়ার অধিকার আছে। তাকে মাটি দেওয়া একটি মানবিকতার কাজ।


 

শিক্ষা

অজ্ঞাতনামা চলচ্চিত্রটিতে বেশ কিছু শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে।

যেমন-
১. অবৈধভাবে কোনো ভাবেই বিদেশ যাওয়া যাবে না।
২. দালালদের প্রলোভনের ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।
৩. প্রত্যেককেই মানবিক মানুষ হতে হবে।
৪. প্রত্যেক সন্তানদের তাদের বাবা-মাকে ভালোবাসা উচিত।
৫. সন্তানের বিপদে পরিবারই সবার আগে এগিয়ে আসে।
৬. প্রসাশনের কর্মকর্তাদের দায়িত্ববান হওয়া।
৭. দেশের প্রসাশনিক কাঠামোতে পরিবর্তন এনে জনগণ বান্ধব করা।


পেজ নং_ ১৪

 অজ্ঞাতনামা চলচ্চিত্র[/caption]
Previous Post Next Post
Premium By Raushan Design With Shroff Templates