হোস্টিং গাইডলাইন - নেওয়ার আগে দেখে নিন Hosting guide lines Bangla


হোস্টিং গাইডলাইন :

ইদানিং অনলাইনে ওয়েব হোস্টিং নিয়ে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দেখা যায় । সঠিক হোস্টিং গাইডলাইন না জানার ফলে এইসব বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে  হোস্টিং নিয়ে প্রতারিত হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। কিছু হোস্টিং প্রোভাইডার আপনাকে বলবে তাদের কাছ থেকে হোস্টিং কিনলে আপনার এয়েব সাইট অনেক ফাস্ট হবে। কেউ কেউ বলবে তারা বাংলাদেশের সেরা  প্রোভাইডার। দেশী বিদেশী অনেক হোস্টিং কোম্পানি তাদের কাছ থেকে সার্ভার নিয়ে হোস্টিং ব্যবসা করে। পরে দেখা যায় এগুলো সব ভুয়া।

সমস্যা হচ্ছে সবাই খুজে সস্তার দিকে। সস্তা হোস্টিং নিয়ে পতারিত হচ্ছে অনেকেই। আবার যে হোস্টিং এর দাম বেশি হলেই যে সার্ভিসে ভালো হবে তা কিন্তু নয়।

হোস্টিং নিবেন বা নেওয়ার কথা ভাবছেন তো দেখে নিতে পারেন ইচ্ছাব্লগ এ ব্লগপোষ্টটি।

ডোমেইন এবং হোস্টিং কি জানতে নিচের পোস্ট গুলো পড়তে পারেন :

ডোমেইন কী?

হোস্টিং কী?

হোস্টিং প্যাকেজ :

ওয়েব হোস্টিং সেবা মূলত ধারণ ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে সেল করা হয়ে থাকে। আমরা জানি, ওয়েবসাইট বিভিন্ন ফাইলের দ্বারা তৈরি ঐ ফাইল গুলো রাখার যে জায়গা লাগে সেটাই হোস্টিং প্রোভাইডার দিয়ে থাকে।

তো হোস্টিং কোম্পানি প্যাকেজ গুলো তৈরি করে আপনি কতটুকু জায়গা জুড়ে আপনার ওয়েবসাইট বা ওয়েবসাইটের ফাইল গুলো রাখতে পারবেন। সাধারণত প্যাকেজ গুলো ১জিবি থেকে শুরু হয়ে থাকে কোম্পানি ভেদে আলাদাও হতে পারে।

১জিবি ডিস্ক স্পেস মানে আপনি ১জিবি পর্যন্ত ফাইল স্টোর করে রাখতে পারবেন। এছাড়াও কতটি ডোমেইন এড করতে পারবেন, কতটি ডাটাবেস তৈরি করতে পারবেন, কতটি ইমেইল তৈরি করতে পারবেন, আরো অন্যান্য কি সেবা পাবেন সেই গুলোর উপর ভিত্তি করে আলাদা আলাদা প্যাকেজ করে বিক্রি করা হয়ে থাকে। আপনার ওয়েব সাইটের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ি হোস্টিং পেকেজটি নিবেন।

তবে যদি আপনি নতুন শুরু করেন বা বা নতুম সাইট এর জন্য হোস্টিং নিবেম তাহলে আমি বলব শেয়ার্ড হোস্টিং পেকেজ নিতে।  প্রয়োজন বেধে ভিপিএস বা ডেডিকেটেড হোস্টিং পেকেজ নিতে পারেন।

নতুন সাইট বা কাজ শিখার জন্য কম মূল্য ১/২ জিবি হোস্টিং পেকেজ নিতে পারেন।

ডিস্ক স্পেস  / ব্যান্ডউইথ :

ডিস্ক স্পেস/ব্যান্ডউইথ : অনেকেই শুরুর দিকে মনে করে তার ওয়েব সাইট এর জন্য প্রচুর ডিস্ক স্পেস/ব্যান্ডউইথ লাগবে। দেখা যায় অনেকের ওয়েব সাইট এর জন্য ৫০০ মেগাবাইট হোস্টিং দরকার। কিন্তু না বুঝে কিনে ফেলেছে, ৫ জিবি/১০ জিবি প্যাকেজ। ফলস্বরুপ তাকে প্রতি বছর টাকা দিতে হয় অযথা।

সুতরাং আপনার ওয়েব সাইটের জন্য কতটুকু ডিস্ক স্পেস/ব্যান্ডউইথ লাগবে তা হিসাব করে নিন। এবং সেই ভাবে আপনার হোস্টিং প্যাকেজ কিনুন, যাতে আপনাকে অযথা টাকা দিতে না হয়। এবং ভবিষ্যতে যদি আপনার অতিরিক্ত ডিস্ক স্পেস/ব্যান্ডউইথ বাড়ানোর প্রয়োজন পড়লে তাহলে পরবর্তী প্লানে আপগ্রেড করে নিবেন।

এখন প্রায় সব কোম্পানিই প্যাকেজ আপগ্রেড সুবিধা দিয়ে থাকে। তবে আপনার যদি গান/মুভি/ভিডিও নিয়ে ওয়েব সাইট করার ইচ্ছা থাকে তবে সে ক্ষেত্রে আপনাকে বড় ওয়েব স্পেস এর দিকে নজর দিতে হবে।

আনলিমিটেড ডিস্ক স্পেস / ব্যান্ডউইথ :

আনলিমিটেড ডিস্ক স্পেস :

অনেকেই নতুন ওয়েব সাইট তৈরী করার সময় আনলিমিটেড হোস্টিং এর উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। মনে রাখবেন আনলিমিটেড এর একটা লিমিট আছে এবং বোনাস হিসেবে সেইটার সাথে আনলিমিটেড সমস্যা থাকে।

আপনি কি কোনদিন আনলিমিটেড হার্ডডিস্ক দেখেছেন, যেটার মধ্যে ফাইল কিংবা প্রয়োজনীয় জিনিস আপনি যতই রাখুন না কেন সেটার স্পেস কোনদিন শেষ হবে না। এটা কি সম্ভব?

যদি উত্তর আপনার না হয় তাহলে আশা করি এখন থেকে ভাববেন আনলিমিটেড ডিস্ক বলতে কোন কিছু হয়না। কারন আপনার প্রোভাইডার এর সার্ভার ও এই আমার আপনার মত কম্পিউটার এর হার্ডডিস্ক এর মত ডিস্ক থেকে সেবা দিয়ে থাকে। সুতরাং সার্ভারের ডিস্ক আনলিমিটেড না হলে আপনি কিভাবে আনলিমিটেড ডিস্ক স্পেস পাবেন?

আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ :
এখন হয়ত বলবেন আনিলিমিটেড ডিস্ক স্পেস নাই পেলাম কিন্তু আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ তো অবশ্যই পাবো। মনে রাখবেন, প্রত্যেকটা সার্ভারের পোর্ট স্পীড কিন্তু ফিক্সড করে দেওয়া থাকে।
যেমন আপনার পিসির ল্যান কার্ডের স্পীড নির্দিষ্ট করা থাকে। অবশ্য সেটা আপনার প্রয়োজনে পিসি/সার্ভার এর পোর্ট স্পীড আপগ্রেড করতে পারবেন।
তবে বর্তমানে ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং পেকেজ এর সাথে অনেক প্রোভাইডার আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ দিয়ে থাকে তবে তা ব্যান্ডউইথ,  স্পিড নয় এবং তা শুধু নিদিষ্ট পেকেজ এর জন্য।
 

হোস্টিং সার্ভার লোকেশন :

ওয়েব সাইট এর জন্য হোস্টিং সার্ভার লোকেশন অনেক গুরুন্তপূর্ণ।  বাংলাদেশী ট্রাফিক টার্গেটেড যেকোন ধরনের ওয়েবসাইটের জন্য BDIX হোস্টিং বাংলাদেশি সার্ভার ব্যবহার করতে পারেন। আপনার ওয়েব সাইট যদি গ্লোবাল টার্গেট বা অন্যান্য দেশেএ ভিজিটর বেশি হয় তবে USA সার্ভার ব্যবহার করতে পারেন।

আপটাইম/SLA গ্যারান্টি :

আপনার ওয়েব হোস্টিং কেনার পূর্বে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে আপনি যে প্রোভাইডারের কাছ থেকে ওয়েব হোস্টিং নিচ্ছেন তাদের হোস্টিং টা কতটা আপটাইম। আপনি কম দামে একটি ওয়েব হোস্টিং দিলেন কিন্তু আপনার ওয়েবসাইট বেশিরভাগ সময় ডাউন টাইম থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে আপনি যেরকম রেঙ্ক হারাবেন তেমনি আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর কমে যাবে। এমনকি সার্চ ইঞ্জিন ও আপনার সাইট পিছনে ফেলে দেবে। তাই অবশ্যই হোস্টিং কেনার পূর্বে আপনাকে বিবেচনা করতে হবে আপনার হোস্টিং সার্ভিস সার্ভারটি কতটা আপটাইম এবং কতটা ফাস্ট গতিতে চলছে।

মানিব্যাক গ্যারান্টি :

মানিব্যাক গ্যারান্টি ওয়েব হোস্টিং এর জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বেশিরভাগ কোম্পানিই ৩০ দিনের মানিব্যাক গ্যারান্টি দিয়ে থাকে। কেনার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন কোম্পানি মানিব্যাক গ্যারান্টি দিচ্ছে কিনা।

হোস্টিং সাপোর্ট :

ওয়েব হোস্টিং এ সাপোর্ট একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনার হোস্টিং সার্ভার যদি কখনো ডাউন হয় আর যদি তা জানাতে এবং উত্তর পেতে কয়েক দিন লেগে যায় তাহলে লক্ষ ভিজিটর হারাতে পারেন।

আর যদি আপনি রিসেলার ক্লায়েন্ট হোন তবে তো মহা বিপদে পড়বেন। আপনার ক্লায়েন্টকে কোন উত্তর দেয়ার মতো কিছু থাকবে না। তাই কোম্পানির সাপোর্ট কত দ্রুত তা নিশ্চিত হয়ে নিন। হোস্টিং কোম্পানিকে জিজ্ঞাসা করুন তাদের গ্যারান্টেড সাপোর্ট রেসপন্স টাইম কেমন। এবং কি কি মাধ্যমে সাপোর্ট দিয়ে থাকে। প্রয়োজন পড়লে, কোম্পানীর কাছে ইমেইল করে এইসব বিষয় জেনে নিন।

প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক অবস্থা :

হোস্টিং কেনার আগে হোস্টিং কোম্পানি ভাল না মন্দ তা জেনে নেয়ার চেষ্টা করুন। কোম্পানি সম্পর্কে ইউজারদের দৃষ্টি ভঙ্গি কেমন তা কোম্পানির রিভিউ দেখলেই বুঝতে পারবেন। সব থেকে প্রাধান্য দিবেন আপনার পরিচিত যারা বর্তমানে বিভিন্ন হোস্টিং ব্যাবহার করছে তাদের কথায়।

বিলিং সফটওয়্যার :

কোম্পানি যেসব বিলিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে তা বৈধ্য উপায়ে করে কি না। নাকি চোরাই সফটওয়্যার ব্যবহার করে তা নিশ্চিত হয়ে নিন। যারা চোরাই বিলিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে সার্ভিস দেয় তাদের থেকে ভাল কিছু আশা করা ঠিক হবে না। কারন এটার জন্য যে কোন সময় ডাটা সেন্টার থেকে আপনার পুরা সাইট এবং সব ক্লায়েন্টদের গুরুত্বপূর্ন তথ্য ডিলেট করে দিতে পারে। পাইরেটেড বিলিং সফটওয়ার ইউজ এর কারনে সব ডাটা হ্যাক হয়ে যেতে পারে।

পেমেন্ট :

কোম্পানি কি কি মাধ্যমে পেমেন্ট নিবে এইসব একটা বিবেচ্য বিষয়। কখনই কোন কোম্পানীর সাথে ব্যাক্তিগত একাউন্টে লেনদেন করবেন না। সব সময় চেস্টা করবেন তাদের প্রতিষ্ঠানের নামের একাউন্টে লেনদেন করতে।

হোস্টিং ফিচার :

হোস্টিং ফিচারস টা দেখে নাও আপনার জন্য একান্ত কর্তব্য এবং দায়িত্ব। কারণ আপনি একটি ওয়েব সাইট দাঁড় করানোর জন্য যে হোস্টিং টি কিনেছেন আপনি যে সমস্ত বিষয় বা ফিচারগুলো চেয়েছেন সে ফিচারস গুলো আপনার হোস্টিং সার্ভার রয়েছে কিনা। আপনার প্রয়োজনীয় ফিচার যদি আপনার হোস্টিং সার্ভারের না থাকে তাহলে আপনার এই হোস্টিং এর কোন মূল্য নেই।

হোস্টিং ফিচারস এর মধ্যে যে বিষয়গুলো দেখা জরুরী তা হলঃ
  • আপনি কতটুকু ওয়েব হোস্টিং পাচ্ছেন
  • কতটুকু ব্যান্ডউইথ আপনাকে দেওয়া হচ্ছে
  • কি পরিমাণে ট্রাফিক মান্থলি ম্যানেজ করতে পারবেন
  • আপনি আপনার বিজনেস ই-মেইল ইউজ করতে পারবেন কি না
  • ইমেইল ফরওয়ার্ডিং ব্যবস্থা রয়েছে কিনা
  • আপনার কন্ট্রল প্যানেলে কয়টি ডোমেইন অ্যাড করতে পারবেন
  • কতগুলি সাব ডোমেইন অ্যাড করতে পারবেন
  • ডোমেইন পার্কিং ব্যবস্থা রয়েছে কিনা
  • ডোমেইন ফরওয়ার্ডিং অপশন রয়েছে কিনা
  • কি পরিমাণে ব্যাকআপ আপনি রাখতে পারছেন
  • কতগুলো ডাটাবেজ তৈরি করতে পারবেন

হোস্টিং প্রোভাইডর :

একটি ওয়েব সাইট এর জন্য প্রয়োজন একটি ভালোমানের হোস্টিং স্পেস বা যায়গা।  ভালো মানের হোস্টিং নিতে হলে ভালো হোস্টিং প্রোভাইডর থেকেেই নিতে হবে। হোস্টিং এর সার্ভার স্পিড যদি কম হয় তাহলে আপনার ওয়েব সাইট এর স্পিড ও কম হবে। এছারা ভালো হোস্টিং প্রোভাইডর থেকে না নিলে সার্ভার ডাউন টাইম বেশি থাকবে। একটি ওয়েব সাইট এ জন্য ভালো মানের হোস্টিং নেয়া বেশি প্রয়োজন।

এ ব্লগপোস্ট টি পরে আপনি নিজেই জাচাই করতে পারবেন কোন পেকেজ  / হোস্টিং প্রোভাইডর আপনার জন্য ভালো হবে।

তবে সেরা কয়েকটি হোস্টিং সার্ভিস সাইট সেয়ার করা হলো যাচাই এর দায়িন্ত আপনার।

জনপ্রিয় হোস্টিং প্রোভাইডার :

ইন্টারনাশনাল হোস্টিং প্রোভাইডার :
বাংলাদেশি হোস্টিং প্রোভাইডার :

আশা করি এ ব্লগ পোস্ট আপনাদের উপকারে আসবে। যেকোন পশ্ন বা জিজ্ঞাসা এর জন্য কমেন্ট করতে পারেন।

 

  •  ওয়েব হোস্টিং
  •  ওয়েব হোস্টিং গাইডলাইন
  •  গাইডলাইন
  • সেরা ওয়েব হোস্টিং
Previous Post Next Post
Premium By Raushan Design With Shroff Templates