কষ্ট মুমিনের জীবনের অংশ



পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা কখনো দেন না। প্রত্যেকেই যা ভালো করেছে তার পুরস্কার পায়, যা খারাপ করেছে তার পরিণাম ভোগ করে।


’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৮৬)

মানুষের জীবনে কষ্ট নানান বেশে আসে। প্রতিটা কষ্টে মানুষ কিছু না কিছু হারায়।


কেউ কেউ হয়তো ভাবেন, মহান স্রষ্টা আল্লাহ তাআলাকে এতো মেনে চললাম তাও কষ্ট দিলেন, চাকরিটা কেড়ে নিলেন, ফসল নষ্ট করে দিলেন কিংবা প্রিয়জন কেড়ে নিলেন!? স্রষ্টার প্রতি হয়তো বিশাল অভিমান, কী অপরাধে স্রষ্টা এত কষ্ট দিচ্ছেন? অথচ একবারের জন্য হলেও ভাবা উচিত- ‘তিনিই সেই সত্তা, যিনি মানুষকে হাসান এবং কাঁদান। তিনিই তো মৃত্যু দেন, জীবন দেন।


’ (সুরা নাজম, আয়াত: ৪৩)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আমি তোমাদেরকে ভয়, ক্ষুধা, সম্পত্তি, জীবন এবং ফসল হারানো দিয়ে পরীক্ষা করবই। জীবনে কোনো বিপদ আসলে যারা ধৈর্যের সাথে চেষ্টা করে এবং বিপদে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে বলে, “আমরা তো আল্লাহরই সম্পত্তি।


আল্লাহরই কাছে আমরা শেষ পর্যন্ত ফিরে যাবো” — তাদেরকে সুসংবাদ দাও! ওদের উপর তাদের প্রভুর কাছ থেকে আছে বিশেষ অনুগ্রহ এবং শান্তি। এধরনের মানুষরাই সঠিক পথে আছে। ’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৫-১৫৭)

অন্য দিকে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তারা কি লক্ষ্য করে দেখে না যে, প্রতিবছর তাদের উপর দুই-একবার বিপদ আসছে? এরপরও ওরা তওবা করে না, উপলব্ধি করার চেষ্টা করে না। ’ (সুরা আত-তাওবা, আয়াত:১২৬)


প্রিয়নবী (সা.) হাদিসে বলেন, ‘আল্লাহ যার ভালো চান তাকে দুঃখ কষ্টে ফেলেন। ’ (বুখারি, হাদিস নং: ৫৬৪৫)


হাদিসে রাসুল (সা.) আরো বলেন, ‘যদি কারো উপর কোনো কষ্ট আসে, আল্লাহ তাআলা এর কারণে তার গুনাহসমূহ ঝরিয়ে দেন; যেমনভাবে গাছ থেকে পাতা ঝরে পড়ে। ’  (বুখারি, হাদিস নং: ৫৬৮৪)


মানুষের প্রতিটা কষ্টের সঙ্গে সুখ মিশে আছে। ধৈর্যশীল মানুষ সেই সুখের অপেক্ষা করেন। তারা জানেন, জীবনে যত ঘোর আসুক না কেন, এক সময় তা কেটে যাবে। কষ্টের এ সময়গুলোতে ধৈর্য্যের সঙ্গে অবিচল থাকাই মুমিনের গুণ।


আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘প্রতিটি কষ্টের সঙ্গে অবশ্যই কোনো না কোনো দিক থেকে স্বস্তি রয়েছে। কোনো সন্দেহ নেই, অবশ্যই প্রতিটি কষ্টের সঙ্গে অন্য দিকে স্বস্তি আছেই। ’ (সুরা আল-ইনশিরাহ, আয়াত: ৫-৬)


বলাবাহুল্য, মানুষের প্রতিটি কষ্টই ক্ষণস্থায়ী। আর কষ্টের বিনিময়ে মানুষকে সর্বোত্তম বিনিময় দেওয়া হবে। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ প্রতিজ্ঞা করে বলেছেন। অথচ আল্লাহ তাআলা প্রতিজ্ঞা না করলেও কোনো অসুবিধা নেই। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন..।


###আবার 


কাউকে কষ্ট দিলে তার কাছ থেকেই ক্ষমা চেয়ে নিতে হবেঃ

======================================

একবার রাসুলূল্লাহ (সাঃ) তাঁর পাশে উপবিষ্ট সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) কে বললেন- তোমরা কি জানো, প্রকৃত পক্ষে আমার উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে গরীব কে ?

_______________

সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) বললেন-আমাদের মধ্যে তো গরীব তাদেরকে বলা হয়,যাদের কাছে ধন-সম্পদ,টাকা-পয়সা না থাকে। তখন রাসুলূল্লাহ (সাঃ)বললেন-"প্রকৃত পক্ষে আমার উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে গরীব সে,যে কিয়ামতের দিন নামায, রোযা, যাকাত, সবকিছু নিয়ে উঠবে,কিন্তু

_______________

তার এ কর্ম গুলো থাকবে যে,সে দুনিয়াতে কারো সাথে মন্দ আচরন করেছে,কারো নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে,কারো সম্পদ আত্মসাৎ করেছে,কাউকে আঘাত করেছে,কাউকে খুন করেছে ইত্যাদি,

_______________

তাই এর বিনিময়ে কিয়ামতের দিন তার কিছু নেকী একে দিবে,কিছু নেকী ওকে দিবে। এভাবে দিতে দিতে বান্দার হক আদায়ের পূর্বে যদি তার নেকী শেষ হয়ে যায়,তাহলে এই হকদারদের গুনাহ তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।"(মুসলিম শরীফ)

_______________

আল্লাহ আরো বলেন-

• যারা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে। (সূরা আহযাব: 58)

_______________

অর্থাৎ কোন মানুষকে যেকোন ভাবে কষ্ট দিলে তা আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। ক্ষমা কেবল সেই ব্যক্তিই করতে পারবেন।

_______________

এখন এই বান্দার হক নষ্ট করলে তা হতে ক্ষমা চাওয়ার উপায়?

যার হক নষ্ট করেছি তার কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে।

_______________

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি তার ভাই এর উপর যুলুম করেছে সে যেন তার কাছ থেকে ক্ষমা নিয়ে নেয়, তার ভাই এর পক্ষে তার নিকট হতে পূণ্য কেটে নেওয়ার আগেই।

_______________

কারণ সেখানে কোনো দীনার বা দিরহাম পাওয়া যাবে না। তার কাছে যদি পূণ্য না থাকে তবে তার (মযলুম) ভাই এর গুনাহ এনে তার উপর চাপিয়ে নেয়া হবে। [বোখারী ৬৫৩৪]

Previous Post Next Post
Premium By Raushan Design With Shroff Templates